বাংলাদেশে গর্ভবতী মায়েদের জন্য সরকারি ভাতা দুটি প্রধান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রদান করা হয়:
১. মাতৃত্বকালীন ভাতা (Maternity Allowance)
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। দরিদ্র গর্ভবতী মায়েরা এই ভাতা পেয়ে থাকেন, যা তাদের গর্ভকালীন স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিশু বিকাশে সহায়তা করে। ভাতা সরাসরি তাদের পছন্দসই ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) একাউন্টে প্রদান করা হয়, যেমন বিকাশ। এটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতাভোগীর একাউন্টে পৌঁছায়, যা তাদের জন্য সুবিধাজনক ও নিরাপদ।
যোগ্যতা:
-
বয়স ২০-৩৫ বছর।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে।
-
প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভাবস্থা থাকতে হবে।
-
নিজ নামে একটি মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে।
-
পারিবারিক মাসিক আয় সর্বোচ্চ ৮,০০০ টাকা হতে হবে।
ভাতা:
-
মোট ৩৬ মাসের জন্য প্রতি মাসে ৮০০ টাকা।
-
প্রতি তিন মাস অন্তর ভাতা প্রদান করা হয়।
-
এছাড়া মা ও শিশুর পুষ্টি, মনো-সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
আবেদন প্রক্রিয়া:
-
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা তথ্য আপার মাধ্যমে নিজে আবেদন করতে পারেন।
-
টোল ফ্রি নম্বর ৩৩৩ বা সরকারের এক সেবায় ফোন করে আবেদন করতে পারেন।
-
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের মাধ্যমে গর্ভ তথ্য যাচাই করা হয়।MOWCA
২. কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল কর্মসূচি
এই কর্মসূচি গার্মেন্টস খাতের কর্মজীবী মায়েদের জন্য। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও ডরপ (Development Organisation of the Rural Poor) এর সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়িত হয়। এতে মা ও শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা হয়।
৩. শ্রম আইন সংশোধন ও মাতৃত্বকালীন ছুটি
বাংলাদেশ শ্রম আইন (Amendment) ২০২৩ অনুযায়ী, কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিন (১৬ সপ্তাহ) নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ছুটি আগের ১১২ দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে ১২০ দিন হয়েছে, এবং মা চাইলে এই ছুটি পুরোপুরি গর্ভাবস্থার পূর্বে বা পরে নিতে পারবেন।
সারাংশ:
গর্ভবতী মায়েদের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুটি প্রধান কর্মসূচি চালু করেছে: একটি দরিদ্র মায়েদের জন্য ভাতা প্রদান এবং অন্যটি কর্মজীবী মায়েদের জন্য ছুটি ও সহায়তা। এই কর্মসূচিগুলি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সহজীকৃত হওয়ায় সুবিধাভোগীরা সহজেই ভাতা গ্রহণ করতে পারেন।
Post a Comment
0Comments