পোস্ট অফিসে ১লক্ষ টাকায় ২০২২ সালে ১১.২৮% মুনাফা Post Office Fixed Dep
পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের অধীনে, ১ থেকে ৩ বছরের জন্য এফডি-তে ৫.৫ শতাংশ সুদ পাওয়া যায় এবং ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগে ৬.৭ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। এই সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে গণনা করা হয়। এটি বার্ষিক পরিশোধ করা হয়। ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্টের তুলনায় এই স্কিমের সুদ প্রায় দ্বিগুণ।
পোস্ট অফিসে একাউন্ট খুলতে যা যা লাগবে
- আমানতকারীর NID কার্ড এবং দুই কপি ছবি।
- নমিনীর দুই কপি ছবি।
- ২ লক্ষ টাকার অধিক জমা করতে হলে নগদে করা যাবেনা সেক্ষেত্রে চেক এ পরিশোধ করতে হবে।
- চেক এ পরিশোধ করলে চেক এবং TIN সার্টিফিকেট এর ফটোকপি।
- চেকের অপর পাতায় “Good for Payment” লিখে ব্যাংক কর্মকর্তার সাক্ষর কিংবা ব্যাংক থেকে ইনটিমেশন ফর্ম ( ব্যাংক কর্মকর্তার সাক্ষর ও সীল সংবলিত ) জমা দিতে হবে।
- আমানতকারীকে স্বশরীরে উপস্থিত হতে হবে।
পোস্ট অফিসে একাউন্ট খোলার নিয়ম
পোস্ট অফিসে একাউন্ট খোলার জন্য আপনার স্বশরীরে পোস্ট অফিসে হাজির হতে হবে। একাউন্ট খোলার সময় যে সাক্ষর করতে হয় তা নিয়ম অনুযায়ী অবশ্যই পোস্টমাস্টারের সম্মুখে থেকে করতে হবে, তাই আপনার নিজের পোস্ট অফিসে যাওয়াটা বাধ্যতামূলক। আপনি সঞ্চয় ব্যাংকে দুইধরনের একাউন্ট খুলতে পারেন। তা হচ্ছে যথাক্রমে মেয়াদী হিসাবের একাউন্ট এবং সাধারন হিসাবের একাউন্ট।
মেয়াদী হিসাব
এটি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট সিস্টেম। এই হিসাবের একাউন্ট খুললে আপনি আপনার অর্থ ৩ বছর মেয়াদে জমা রাখতে পারবেন। অন্যান্য ব্যাংকের নিয়মের মতোই, এই ধরনের মেয়াদী হিসাবের একাউন্টে সাধারন হিসাবের তুলনায় বেশি মুনাফা প্রদান করা হয়ে থাকে। বর্তমানে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে ১১.২৮% হারে মুনাফা প্রদান করা হয়, তবে উৎসে মুনাফার ১০% হারে কর কর্তন করা হয়ে থাকে। এই ৩ বছর মেয়াদী হিসাবে আপনি প্রতি এক লাখ টাকা জমা রাখলে ৩ বছর শেষে ৩০,৪৫৬/- টাকা মুনাফা লাভ করবেন। মেয়াদী হিসাবে একক ভাবে ১০ লক্ষ এবং যৌথভাবে ২০ লক্ষ টাকা সমমূল্যের সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যায়। এভাবে, ৩ বছর পর যদি আপনি টাকা উত্তোলন না করেন তবে আপনার মুনাফা আপনার মূলধনের সাথে যুক্ত হবে এবং এভাবে আপনার উর্ধ্বসীমা ( একক একাউন্টে ১০ লক্ষ এবং যৌথ একাউন্টে ২০ লক্ষ ) অব্ধি জমা হতে থাকবে এবং সে অনুপাতে আপনি মুনাফা পাবেন। অর্থাৎ মেয়াদী হিসেবের ক্ষেত্রে আপনি চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা পাবেন। চক্রবৃদ্ধি মুনাফার ব্যাপারটি হলো, মনে করুন আপনি ১ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছেন এবং এতে ৩০ হাজার টাকার মুনাফা এসেছে, কিন্তু আপনি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক থেকে আপনার মুনাফার অর্থ উত্তোলন করেননি৷ এবার আপনার মুনাফা হিসেবে নয় বরং মূলধন হিসেবে এই ৩০ হাজার টাকাকে গণ্য করা হবে। আগে যেখানে আপনি মুনাফা পেতেন এক লক্ষ টাকার ১১.২৮% হারে, এবার আপনি মুনাফা এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকার ১১.২৮% হারে। এরপর আপনার মুনাফা থেকে ১০% হারে কর কর্তন করে নেওয়া হবে। এভাবে আপনার মূলধন এবং সে অনুপাতে মুনাফা বৃদ্ধি পেতে থাকবে যতক্ষন তা আপনার ক্রয়ের উর্ধ্বসীমা অতিক্রম না করে।
সাধারন হিসাব
সাধারন হিসাব এর আওতায় আপনি মাসিক মুনাফা লাভ করতে পারবেন এবং ইচ্ছানুযায়ী টাকা উত্তোলন করবেন। এতে আপনি আপনার অর্থের উপর ৭.৫% হারে মুনাফা পাবেন এবং আপনার উৎসে মুনাফার ১০% হারে করকর্তন হবে। অর্থাৎ, সাধারন হিসাবে আপনি টাকা জমা রাখলে প্রতি এক লক্ষ টাকায় বছরে মোট ৬৭৫০/- টাকা মুনাফা লাভ করবেন। আপনি এ মুনাফা প্রতি মাসেই উত্তোলন করতে পারবেন৷ সাধারন হিসাবের ক্ষেত্রেও একক একাউন্টের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের উর্ধ্বসীমা ১০ লক্ষ এবং যৌথ একাউন্টের ক্ষেত্রে উর্ধ্বসীমা ২০ লক্ষ টাকা।
এভাবে আপনি যে ধরনের একাউন্ট খুলতে চান সেই একাউন্টের ফর্ম আপনাকে পূরন করতে হবে। ফর্ম পূরনের শেষে একাউন্ট খোলার কাজ সম্পন্ন হলে আপনাকে একটি পাসবই দেওয়া হবে যা দিয়ে আপনি পরবর্তীতে টাকা উত্তোলন বা অন্যান্য লেনদেন করতে পারবেন। এখানে উল্লেখ্য, একজন ব্যক্তি একটিই একাউন্ট খুলতে পারবেন৷ আপনি এক পোস্ট অফিসে গিয়ে একাউন্ট খুলে থাকলে অন্য কোন পোস্ট অফিসে গিয়ে আরেকবার আরেকটি একাউন্ট খুলতে চাইলে তা রীতিমত অপরাধ হিসেবে গন্য হবে।
পোস্ট অফিসে টাকা রাখার নিয়ম
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের এখনো অব্ধি অনলাইনে কার্যক্রম খুব একটা নেই। যেহেতু এটি সাধারণ ব্যাংক না বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান না, যার ফলে আপনি ব্যাংকের মতো শুধু টাকা জমা রাখতে পারেন না, আপনাকে সঞ্চয়পত্র কেনার মাধ্যমে জমা রাখতে হয়। সেজন্য সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের জন্য আপনাকে স্বশরীরেই পোস্ট অফিসে যেতে হবে। একাউন্ট খোলার সময় আপনাকে সে পাস বই দেওয়া হয়েছে সেটির মাধ্যমে আপনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় বিক্রয়ের সকল হিসেবের লেনদেন করা হবে। তবে আপনি যদি নগদ অর্থ নিয়ে যান তবে দুই লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সঞ্চয়পত্র আপনি নগদ টাকায় ক্রয় করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনাকে আগে অন্য কোন ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হবে, সে ব্যাংক একাউন্টে আপনার টাকা জমা করে চেকের মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে। এভাবে আপনি আপনার একাউন্টে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের মাধ্যমে টাকা রাখতে পারবেন।

Post a Comment
0Comments